লক্ষন।
মানসিক সমস্যা একটি প্রধান বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা। পৃথিবীর অনেক মানুষই মানসিক সমস্যায়
ভুগছেন। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই সমস্যার স্বরূপ একটু ভিন্ন। আমাদের দেশে স্বাস্থ্য বলতে বেশীরভাগ মানুষ শারীরিক স্বাস্থ্যকেই বোঝে মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করে। এটা যে একটা স্বাস্থ্য সমস্যা তা খুব অল্পসংখ্যক মানুষই বুঝতে পারেন। তাই আমাদের অতি কাছের মানুষটিও যদি কখনো মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন আমরা তা উপলব্ধি করতে পারিনা। যখন বুঝতে পারি তখন হয়তো অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই আমাদের জানা প্রয়োজন কোন কোন লক্ষণ বা পরিবর্তণগুলো দেখলে বুঝতে পারবো আমার কাছের মানুষটি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন-
যখন দেখবেন নিচের লক্ষণগুলো তিন থেকে ৬ মাসের বেশি স্থায়ী এবং তা তার দৈনন্দিন কাজ কর্মকে ব্যাহত করছে তখন বুঝতে হবে আপনার পাশের মানুষটি কোনো সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং তার সাহায্যের প্রয়োজন। অনেক সময় এই লক্ষন একটাই যে হবে তা নয় দুই তিনটা লক্ষণ এক সাথেই দেখা যেতে পারে।
* বিষন্নতা ও হতাশায় ভুগছেনঃ যদি খেয়াল করেন যে আপনার কাছের মানুষটি আগে যে সব কাজ করতে ভালবাসতেন সে সব কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন আর সারাক্ষন তাদের মন খারাপ বা মেজাজ খিটখিটে থাকছে,কোন কাজেই কোন উৎসাহ পাচ্ছেন না শক্তি পাচ্ছেন না, কান্নাকাটি করছেন । তখন বুঝতে হবে তিনি হয়তো বিষন্নতায় ভুগছেন।
* তার মাঝে উদ্বেগ ও অস্থিরতা দৃশ্যমানঃ আমরা সবাই অনেক সময়ই নানাকারণে উদ্বেগ আর অস্থিরতায় ভুগি। কিন্তু কেউ যদি এই অস্থিরতা বা উদ্বেগে সারাক্ষণ ভোগে তাহলে বুঝতে হবে তার মানসিক কোন সমস্যা হচ্ছে।
* অধিক মানসিক চাপ অনুভব করছে্নঃ আমাদের শরীর আর মন এর একটা সীমারেখা আছে মানসিক চাপ নেবার। কিন্তু এই ভারসাম্য যখন কারো ভেংগে যায় তখনই তা চিন্তার বিষয়।
* অহেতুক ভয় পাচ্ছেনঃ নির্দিষ্ট বস্তু, বিষয় বা পরিস্থিতে একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত ভয় গ্রহনযোগ্য। কিন্তু এই ভয়ের মাত্রা যদি স্বাভাবিকতার মাত্রা অতিক্রম করে তখন কিন্তু বুঝতে হবে আপনার কাছের মানুষটির সাহায্যের প্রয়োজন।
* নিজের বা অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা বা আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছেঃ নিজেকে দোষারূপ করা নিজেকে সবকিছুর জন্য দায়ী করা, তার দ্বারা কিছু হবে না এ ধরনের ভাবনা কিন্তু মানসিক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। আর একসময় এই ধরণের ভাবনা চরম আকার ধারন করে তখন সে নিজের ক্ষতি করতে চায় বা তারমধ্যে আত্মহননের প্রবনতা দেখা যায়। অনেক মায়ের বাচ্চা প্রসব পরবর্তী সময়ে হরমোনাল পরিবর্তনের কারনে এমন ভয়ংকর ডিপ্রেশন হয় যে তারা নিজের সাথে সাথে বাচ্চারও ক্ষতি করার চেষ্টা করে। পরিবারএর সবার এ সময় মায়ের পাশে দাঁড়ানো একান্ত প্রয়োজন।
* মনোযোগের সমস্যা হচ্ছেঃ যদি দেখা যায় মন সব সময় বিক্ষিপ্ত থাকছে আর তাই কোন বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারছেন না,সেই সাথে মন বিক্ষিপ্ত থাকায় কোন বিষয় মনে রাখতে আর সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তাহলে বুঝতে হবে তার মানসিক সমস্যা হচ্ছে।
* ঘুমের সমস্যা হচ্ছেঃ বিষণ্ণতা আক্রান্ত বহু মানুষকে ঘুম থেকে দেরীতে উঠতে দেখা যায়। মানসিক অস্থিরতার কারণে রাতে ঘুমাতেও দেরী করতে দেখা যায়। ঘুমের এধরণের নানা অনিয়ম অনেক সময় মানসিক সমস্যা নির্দেশ করে।
* অতিরিক্ত রাগ ও খিটখিটে মেজাজঃ রাগ বা মেজাজ খারাপ আমাদের সবারই হয়। কিন্তু সবসময় কোন কারণ ছাড়া হঠাৎ প্রচন্ড রাগ বা মেজাজ করলে তাকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।
* সামাজিক যোগাযোগে সমস্যাঃ মানুষ সামাজিক জীব। বেঁচে থাকার জন্য অন্যান্য মানুষের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কেউ যদি হঠাৎ করে আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব সবাইকে এড়িয়ে চলা শুরু করে তাহলে বুঝতে হবে তার কোন সমস্যা হচ্ছে।
*ওজন আর খাবার ইচ্ছার পরিবর্তনঃ যদি দেখা যায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে কারো ওজন অস্বাভাবিক ভাবে কমছে বা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী খাচ্ছেন বা অনেক কম খাচ্ছেন তখন খেয়াল রাখতে হবে কারণ এগুলো বিষন্নতা, দুশ্চিন্তা বা খাবার/ওজন সংক্রান্ত ব্যাধির
তথ্যসূত্রঃ












