বাতাবিলেবু বা জাম্বুরা আমাদের দেশের অতি পরিচিত মৌসুমীফল। দেখা যায় অনেক সময়ই আমরা আমাদের এই দেশীয় ফলটি বাদ দিয়ে বিদেশী ফল মোসাম্বি বা মাল্টাকেই আমাদের ফলের তালিকাতে রাখি। কিন্তু জানেন কি আমাদের শরীরে প্রতিদিনে যে পরিমাণ ভিটামিন সি’ এর প্রয়োজন হয় তার উল্লেখ্যযোগ্য অংশ আমারা পেতে পারি জাম্বুরা থেকে? আর এটাও মনে রাখতে হবে আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন ভিটামিন সি’ সমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিৎ হবে কারণ আমাদের শরীর এটা প্রাকৃতিক ভাবে তৈরী করতে পারে না। পুষ্টিমানে অনেক উন্নত জাম্বুরার প্রতি ১০০ গ্রামে রয়েছে খাদ্যশক্তি ৩৮ কিলোক্যালরি। ভিটামিন সি ৬১ মিলিগ্রাম, কালসিয়াম ৩৭মিলিগ্রাম,ম্যাগনেসিয়াম ৬ মিলিগ্রাম,পটাশিয়াম ২১৬ মিলিগ্রাম।
জাম্বুরার উপকারিতাঃ
- মূত্রনালীর ইনফেকশন রোধ করে
- ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
- সর্দিকাশি কমাতে সাহায্য করে
- হজমে সাহায্য করে
- মাংশপাশীর খিঁচুনী কমাতে সাহায্য করে
- জাম্বুরায় রয়েছে পটাশিয়াম যা হাঁড়কে শক্ত করে আর হাঁড়ের ক্ষয় রোধ করে
- ওজন কমতে সাহায্য করে
- ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে
- মাড়ি থেকে রক্ত পড়া আর মাড়ি আলগা হয়ে যাওয়া রোধে ভাল কাজ করে
- ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখে আর নিয়মিত খেলে ব্রন কমে
- এতে রয়েছে স্পারমিডিন যা ত্বকে বলিরেখা পড়া আর বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে
- চুলকে ঝলমলে সুন্দর রাখে আর খুশকী রোধ করে
তবে মনে রাখতে হবে জাম্বুরাতে পটাশিয়াম অনেক বেশী থাকায় কিডনী রোগীদের জন্য কিন্তু জাম্বুরা ক্ষতিকর। প্রতিদিন বিকেলে এক বাটি জাম্বুরা ভর্তা বা রাতে এক গ্লাস জাম্বুরার রস খেয়ে দেখতে পারেন, তলপেটের বাড়তি মেদ ধীরে ধীরে কমে আসবে যদি অন্যান্য খাদ্যাভ্যাস ঠিক থাকে।
জাম্বুরা আমরা কাঁচা মরিচ/লাল মরিচ, অল্প লবণ দিয়ে ভর্তা করে বা অন্যান্য ফল বা সব্জির সাথে সালাদ করে খেতে পারি। এর খোসা দিয়ে মারমালেড/জেলি তৈরী করা যায়। জাম্বুরার রস হতে পারে গরমে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য এক দারুন পানীয়।
তথ্যসূত্রঃ












