ছেলেবেলায় দাঁতে ব্যথা হলে মা বলতেন একটা লং দাতে কামড় দিয়ে রাখো তাতে ব্যথা সেরে যেত আবার খুসখুসে কাশি হলে বলতেন দুটো লং মুখে রেখে দাও আরাম পাবে । তাই জানতাম লং বা লবঙ্গ কাজের জিনিস তবে জানতামনা যে এটা সকল কাজের কাজী । লবঙ্গ এক প্রকারের মসলা। লবঙ্গ গাছের ফুলের কুড়িকে শুকিয়ে মসলাটি তৈরি করা হয়। লবঙ্গের আদিবাস ইন্দোনেশিয়ায়, তবে বর্তমানে এটি পৃথিবীর সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। প্রধানত জাঞ্জিবার, ইন্দোনেশিয়া ও মাদাগাস্কারে লবঙ্গ চাষ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকাতেও লবঙ্গের চাষ হয়ে থাকে। লবঙ্গকে আস্ত অথবা গুড়া অবস্থায় রান্নায় ব্যবহার করা হয়। চীনা ও জাপানীরা ধুপ হিসাবে লবঙ্গ ব্যবহার করে । আমাদের দেশের খাদ্যে বহুদিন ধরে লবঙ্গ ব্যবহার হয়ে আসছে। মেক্সিকোর খাদ্যেও এর ব্যবহার রয়েছে।
লবঙ্গের সুগন্ধের মূল কারণ “ইউজেনল” (Eugenol) নামের যৌগ। এটি লবঙ্গ থেকে প্রাপ্ত তেলের মূল উপাদান, এই যৌগটির জীবাণুনাশক এবং বেদনানাশক গুণ রয়েছে। লবঙ্গের সুমিষ্ট সুগন্ধের সাথে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, আশ সহ আরো অনেক পুষ্টিকর উপাদান যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজন।
চলুন এবার জেনে নেই লবঙ্গের বিশেষ কিছু ব্যাবহার ও গুনাগুণ সম্পর্কে।
১) দাঁত ব্যথা হলে কয়েকটি লবঙ্গ পিষে আক্রান্ত স্থানে দিয়ে রাখুন, দাঁত ব্যথার নিশ্চিত উপশম হবে। ঠিক এই কারণেই বেশিরভাগ টুথপেস্টেই লবঙ্গ থাকার দাবী করা হয়।
২) লবঙ্গ ব্রন দূর করে। এক চা চামচ লবঙ্গ গুঁড়ো, এক চা চামচ মধু ও দুই তিন ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে অনেক দ্রুত ব্রনের সমস্যার সমাধান হবে।
৩) বমি বমি ভাব দূর করতে গুঁড়ো লবঙ্গের সাথে মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন। আরাম পাবেন।গর্ভবতী মায়েরা সকালের বমি বমি ভাব দূর করতে লবঙ্গ চুষতে পারেন। শুধু লবঙ্গ মুখে ভালো না লাগলে সামান্য মধু বা গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন। সকাল বেলাটায় অনেক স্বস্তি বোধ করবেন।
৪) ত্বকের ফাটা দাগ দূর করতে নিয়মিত লবঙ্গের তেল ব্যবহার করুন।লবঙ্গের তেল শুষ্ক ত্বকের জন্য বেশ কার্যকর। ঘুমানোর আগে তুলায় এই তেল নিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে ঘুমান। এতে ত্বকের শুষ্কতা দূর হয়ে ত্বক হবে কোমল ও মসৃণ।
৫) মাথা ব্যথার জন্যও লবঙ্গ কার্যকর, কয়েক ফোঁটা লবঙ্গ তেল একটি কাপড়ে বা টিস্যুতে দিয়ে কপালের ওপরে দিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট রেখে সরিয়ে ফেলুন। মাথা ব্যথা কমবে।
৬) মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে লবঙ্গ তুলনাহীন। কয়েকটি মুখে ফেলে চিবালেই আপনার নিঃশ্বাস হয়ে উঠবে তরতাজা।
৭) স্ট্রেস ও উৎকণ্ঠা অনুভব করলে এক টুকরো লবঙ্গ মুখে ফেলে চুষে চুষে খেয়ে ফেলুন। আবার পান করতে পারেন লবঙ্গের চাও। মেজাজ ফুরফুরে হয়ে উঠবে।
৮) চিনির কৌটার মধ্যে লবঙ্গ দিয়ে রাখুন। দেখবেন চিনিতে পিঁপড়া আসবে না।
৯) লবঙ্গের তেল আপনার নিয়মিত ব্যবহারের তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুল পড়া কমবে এবং চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে।
১০) মশা দূর করে লবঙ্গ। লেবু কেটে এর মধ্যে লবঙ্গ লাগিয়ে মশা হওয়ার জায়গাগুলোতে রেখে দিন। এতে মশার সমস্যা অনেকটা দূর হবে।
১১) হাঁটুতে বা কোন জয়েন্টে ব্যথা হলে বেশ কিছু লবঙ্গ নিন। সেগুলোকে হালকা আঁচে তাওয়ায় গরম করে নিন। এই লবঙ্গকে কাপড়ে বেঁধে পুঁটুলি করে গরম থাকতেই আক্রান্ত স্থানে সেঁক দিন। ব্যথা কমে যাবে।
১২) লবঙ্গ খুসখুসে কাশির জন্য খুবই কার্যকরী ।
১৩) টুথ পাউডারের সাথে লবঙ্গ গুড়ো মিশিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁতের মাড়ি মজবুত থাকে ।
১৪) সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা হোক কিংবা অ্যাজমা, সাইনাস ইত্যাদির সমস্যা; দিনে কয়েক কাপ লবঙ্গ চা খেলে রোগের উপশম হবে। লবঙ্গ পানিতে ফুটিয়ে চা তৈরি করে নেবেন, ঠিক যেভাবে আদা চা তৈরি করেন।
১৫) চোখের ফোলাভাব দূর করতে রাতে ঘুমানোর আগে চোখের নিচে লবঙ্গের তেলে লাগিয়ে ঘুমান। এতে চোখের ফোলাভাব অনেকাংশে কমে যাবে।
১৬) এক বোতলে পানির মধ্যে লবঙ্গের তেল মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে স্প্রে করুন। এটি প্রাকৃতিক ফ্রেশনারের কাজ করবে।
তথ্যসুত্রঃ












