সেদিন দেখি মেয়ে সারা মুখে টমেটোর পেস্ট লাগিয়ে বসে আছে । জিজ্ঞাস করতেই উত্তর দিলো ইউটিউবে দেখেছি লাগালে স্কিনের জন্য ভাল। আমি আবার জিজ্ঞাস করলাম কেনো ভাল? মেয়ে উত্তরে বললো মা তুমি যে টমেটো খাও তার সব গুনাগুন কি জেনে খাও? মনে হলো কথাটা তো সত্যি। তাই বসে গেলাম ল্যাপটপে টমেটো সমন্ধে জানতে। আসুন আপনারাও জেনে নিন আমার সাথে।
টমেটো এক সময় আমাদের দেশে শুধু শীতের সময়েই পাওয়া যেত,কিন্তু বর্তমানে সারা বছর ধরেই টমেটো পাওয়া যায়। সারা বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৭৫০০ প্রজাতির টমেটো রয়েছে । আমরা টমেটোকে সবজীর কাতারে ফেলি কিন্তু টমেটো আসলে এক ধরণের ফল। টমেটোর ব্যবহার হয়ে আসছে বহু যুগ আগে থেকে। সেই ৫০০ খ্রিষ্ট পূর্ব থেকে মেক্সিকোতে টমেটোর ব্যবহার শুরু হয়েছিল। টমেটো শুধু খেতেই সুস্বাদু নয় এর মাঝে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর উপাদান যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার, বিটা কেরোটিন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, জিংক, ফলেট । টমেটতে শুধু প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে তা নয় এতে রইয়েছে বিশেষ ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপিন যাকে মনে করা হয় মানব স্বাস্থ্য আর রোগ প্রতিরোধের জন্য সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান ।
টমেটোর উপকারিতাঃ
- ক্যান্সার প্রতিরোধকঃ গবেষণায় দেখা গেছে যে টমেটোতে লাইকোপিন নামের যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে তা বিশেষ করে প্রস্টেড ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ টমেটোর মধ্যে রয়েছে লাইকোপিন, পটাশিয়াম আর মিনারেল যা রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
- হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রক্তচাপ, কলেস্টোরেল এর পরিমান কমিয়ে রাখে সেই সাথে রক্তনালীকে সবল রাখে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
- চোখের জন্য ভালঃ টমেটোর মাঝে যে লাইকোপিন ,লুতেইন আর বেটা কেরোটিন আছে তা চোখের জন্য ভাল। গবেষণায় দেখা গেছে এই উপাদান গুলো দৃষ্টি শক্তির জন্য যেমন ভাল তেমনি চোখের বিভিন্ন রোগ যেমন চোখের ছানি মত রোগ কমাতে সাহায্য করে।
- হজমের সাহায্য করেঃ কোষ্ট্যকাঠিন্য থাকলে টমেটো খেলে উপকার হয়। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পানি আর আশ। আর এর মধ্যে যে ক্লোরাইড রয়েছে তা হজমে সাহায্য করে।
- ত্বকের জন্য উপকারীঃ সৌন্দর্য্য চর্চায় একটি জরুরী উপাদান হলো টমেটো। মুখের গর্ত,ব্রন সাড়াতে, রোদে পোড়া দাগ কমাতে ত্বককে সজীব উজ্জ্বল করতে টমেটোর তুলনা হয় না।
- মজবুত হাড়ের জন্যঃ লাইকোপিন বিশেষ করে বয়স্ক লোকের হাড়ের জন্য খুব ভাল কাজ করে , এছাড়াও এতে রয়েছে ম্যানগানিস, ফসফরাস আর ভিটামিন কে যা হাড়কে শক্ত আর মজবুত করে।
- লিভারের জন্য ভালঃ টমেটো লিভারের সুরক্ষা করে আর লিভার থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।
টমেটো কাঁচা বা সালাদের সাথে খেতে পারেন আবার রান্না করেও খেতে পারেন । সস বা পিউরি করে সংরক্ষন করেও রাখা যায় । মনে রাখবেন টমেটোর বিচীর আশে পাশে যে জেলীর মত পদার্থ থাকে তাতেই বেশী পরিমান ভিটামিন সি থাকে। টমেটো রান্না করলে এর মধ্যে যে লাইকোপিন আছে তা বেশী কাজ করে আবার অন্য কিছু উপাদান আছে এতে যা কাঁচা খেলে ভাল ফল পাওয়া যায় । তাই খেয়াল করে রান্না আর কাঁচা দুই ভাবেই টমেটোকে আপনার খাবার তালিকায় রাখুন।
তথ্যসুত্রঃ https://foodfacts.mercola.com/tomatoes.html












